.jpeg)
লক্ষ্মীপুরে পিতার সম্পত্তি লিখে নিয়ে তা আত্মসাৎ করার ঘটনা জেনে ফেলাই আপন ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। বড় ভাই ফারুক হোসেন তার ছোট ভাই মাসুদ আলমকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে ৩৫ শতাংশ সম্পত্তি বাবা লতিফ পাটোয়ারীর কাছ থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেয়।
জাল-জালিয়াতি করে সম্পত্তি নেয়ার বিষয়টি জানতে পারায় ছোট ভাই শরীফুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালিয়ে দেয় বড় ভাই। নিহত শরীফুল ইসলাম রামগঞ্জ পৌর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ও রামগঞ্জ উপজেলার রৌশন আলী পাটোয়ারী বাড়ির লতিফ পাটোয়ারীর ছেলে। এসব ঘটনার প্রকৃত তথ্য বের করে নিজের বড় ছেলের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বাবা লতিফ পাটোয়ারী। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন বৃদ্ধ বাবা লফিত পাটওয়ারী।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, তার বড় ছেলে ফারুক হোসেন একটি পারিবারিক বিষয়ে তার মেজো ছেলেসহ কয়েক জনকে মামলা দেয়। পরে ওই মামলায় তার মেজো ছেলে জেলে যায়। মেজো ছেলে জেলে যাওয়ার পর তার বড় ছেলে ফারুক হোসেন পরিকল্পিতভাবে তার ৩৫ শতাংশ সম্পত্তি নিজের নামে লেখে নেয়। কিন্তু তিনি তখন রেজিস্ট্রি অফিসে যাননি। জাল দলিলের মাধ্যমে তা লিখে নেওয়া হয়। মেজো ছেলে জেলে থাকা অবস্থায় সম্পত্তি লিখে নেওয়ার কথা ছোটো ছেলে জেনে ফেলাই নিজ ঘরে ছোট ছেলে শরীফুল ইসলামকে হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয় বড় ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লতিফ পাটোয়ারীর মেজো ছেলে মাসুদ আলম বলেন, বিগত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ফারুক হোসেন আমাকে, আমার ছোট ভাই শরীফুল ইসলামকে, আমার স্ত্রী ও আমার শ্যালককে মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। মূলত একটি সাজানো মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে বাবার ব্যাংকে থাকা আট লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে বাবার সম্পত্তি দখলে নিতে সে আমাকে নিয়ে নাটক সাজায়। পরবর্তী ছোট ভাই এসব পরিকল্পনার কথা জেনে যাওয়ায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ শরীফুল ইসলামকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালিয়ে দেয়া হয়। বড় ভাই ফারুক হোসেনের এসব অপকর্মের সঠিক তথ্য তুলে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লতিফ পাটোয়ারীর মেয়ে আফরোজা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।