
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে পাঁচ বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরেছেন। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে তাদের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ফেরত আসা নারীরা হলেন শিমু আক্তার, শারমিন খাতুন, পাপিয়া আক্তার, লাভলী খাতুন ও রোজিনা খাতুন। তাদের বাড়ি যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট ও টাঙ্গাইল জেলায়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, প্রায় চার বছর আগে ভালো চাকরির আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা অবৈধভাবে ভারতে যান। সেখানে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দেশটির আদালত তাদের মধ্যে কয়েকজনকে দুই বছর এবং কয়েকজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন।
তিনি জানান, সাজা শেষ হওয়ার পর ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার তত্ত্বাবধানে তারা একটি শেল্টার হোমে অবস্থান করছিলেন। পরে দুই দেশের দূতাবাসের প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং ভারত সরকারের ইস্যু করা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার রাতে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ওসি আরও জানান, ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পাঁচ নারীকে বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার জিম্মায় দেওয়া হয়।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতেই পাঁচ নারীকে তাদের শেল্টার হোমে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময় প্রচারণা চালানো হলেও দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে এখনো অনেক মানুষ অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগমনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।