
শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমাতে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে বিশেষ ক্লাস চালুর পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শূন্য পদ পূরণ এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দিনব্যাপী শিক্ষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানের সময়ের আগে বা পরে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ কার্যক্রমে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শূন্য শিক্ষক পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতিসংক্রান্ত মামলার জট বর্তমানে সমাধানের পথে রয়েছে।
এনটিআরসির সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ প্রসঙ্গে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, তারা যেন সহজেই নিজ নিজ এলাকায় নিয়োগ পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এনটিআরসির সুপারিশসংক্রান্ত সনদ নিয়ে কোনো বিদ্যালয়ে হাজির হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ তাদের নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবে।
কচুয়াকে শিক্ষার একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে চূড়ান্ত পরীক্ষার আদলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মডেল পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালনারও প্রস্তাব করেন তিনি।
শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উপজেলাভিত্তিক কমিটি গঠনের কথা বলেন, যারা প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, পরীক্ষা পরিচালনা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষকদের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করবে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা যেন সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা না করে, সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনাই নয়, সংস্কৃতিচর্চা, খেলাধুলা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।
মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশ্রাফ, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ।
মতবিনিময় সভায় কচুয়া উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন হাজারের বেশি শিক্ষক অংশ নেন।