
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার ও কক্ষ পরিদর্শকসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া ৫০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র জরুরি ভিত্তিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা সাত প্রভাষক— শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রে অনিয়মিত (২০২৫ সালের সিলেবাস) পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন। কিন্তু বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে নিয়মিত (২০২৬ সালের সিলেবাস) ৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী এ ঘটনা চরম দায়িত্ব অবহেলার শামিল। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
একই চিঠিতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে সশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র জানিয়েছে, বাংলা প্রথমপত্র ছাড়া পরবর্তী সব বিষয়ের পরীক্ষা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাস অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।