
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বারদহা বাজারে কিশোর রাফাত হোসেন (১৭)-এর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ, যুবক ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কুদ্দুস গাজী।
তিনি বলেন, একটি কিশোরের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে আড়াল করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাফাতের মা শাহানারা খাতুন, আব্দুল লতিফ সরদার, আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী, আলতাফ হোসেন, আবুল কাশেম, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ।
রাফাতের মা শাহানারা খাতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলে স্থানীয় আক্তারের ফার্মে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। গত ১৩ জুন তাকে হত্যা করে ফার্মে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শনিবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ কিশোর যুবক বৃদ্ধরাও অংশ নেন।
আব্দুল লতিফ সরদার বলেন, স্থানীয় অর্থবিত্তের মালিক ও প্রভাবশালী আক্তারের মাদকাসক্ত ছেলে অলিদ এই রাফাতকে শুধু না নেশা টাকা যোগাড় করতে নানাজনকে নানা ভাবেই নির্যাতন নিপীড়ন এর আগেও করেছে। তবে এবার একেবারে করুণ শিকার হলো দিনমজুরের ছেলে রাফাত। দিনমজুরের সন্তান হওয়ায় রাফাতের পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এমনটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না।
আব্দুল মালেক বলেন, তদন্তে গাফিলতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। রমজান আলী বলেন, অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আলতাফ হোসেন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আবুল কাশেম বলেন, রাফাতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মাছুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, একাধিক কর্মসূচি পালন ও পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা অবিলম্বে রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শফিকুল ইসলাম জানান, ১৩ জুন আক্তার হোসেনের মুরগির ফার্মে কর্মরত অবস্থায় সুকৌশলে ফার্ম মালিকের ছেলে অলিদ হোসেন এই হত্যা সংঘটিত করে। এবং ফার্মের নীচু বাঁশে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশের কাছে বারবার জানানো স্বত্ত্বেয় পুলিশ কোনভাবেই নড়াচড়া করছে না। শফিকুল বলেন, গরীব বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?