
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের একটি উপকেন্দ্রে ঢুকে কর্তব্যরত এক লাইনম্যানকে তুলে নিয়ে মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপকেন্দ্র-১-এর আওতাধীন উত্তর ধানুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৪ জুন) ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটি মেরামতের কাজে উত্তর ধানুয়া গ্রামে যান লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. ইব্রাহীম ও গ্রেড-২ মো. আব্দুল কাদের। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে কর্মরত লাইনম্যানদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তারা আব্দুল কাদেরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উত্তর ধানুয়া গ্রামে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা ২৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মামলায় ধানুয়া গ্রামের মো. জাফর মিজি, মো. ফারুক পাটোয়ারী ও মো. জসিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক দিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতিগুলো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে অননুমোদিত হস্তক্ষেপ প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তারা বলছে, জনসেবামূলক দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর হামলা দেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইন ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।