
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছুরিকাঘাতে অপু (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার সাঁতারপুর বাজার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু সাঁতারপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত সীমান্ত মিয়া (১৫) একই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সীমান্তের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় সে বন্ধু অপুকে সন্দেহ করে এবং চুরির অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে অপুর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। তবে সীমান্ত সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্ত কৌশলে অপুকে সাঁতারপুর বাজার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয় নিয়ে আবারও তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে অপুর পেটে আঘাত করে বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় অপুকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত সীমান্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, অপু ও সীমান্ত সবসময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানা-র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।