
সদ্য বিদায়ী সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে সিলগালা করা তিনটি দানের ডেগের তালা খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু করেছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সও খুলে চার দিনের সংগৃহীত অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) জোহরের নামাজের পর দরগাহ প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ডেগ ও দানবাক্স থেকে অর্থ বের করে প্রকাশ্যে গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। এখনো গণনা চলছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, জোহরের নামাজ আদায়ের পর বেলা ২টার দিকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে টাকা বের করা হয়। পরে সেগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণনা চলছিল। তিনি বলেন, ‘দানের টাকা গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।’
মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দরগাহে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের পর ডেগ সিলগালা করা হয়। এরপর সোমবারই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স ও ডেগ খুলে টাকা গণনা করা হয়।
তারা আরও জানান, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া দানের অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
টাকা গণনায় অংশ নেওয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘এই চার দিনের টাকার হিসাব থেকেই জানা যাবে, যুগের পর যুগ ধরে এই মাজারে দানের কত টাকা লুট হয়েছে। দিনে কত টাকা আসে, এসব টাকা কোথায় যায়। এরপর এই লুটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলবো আমরা।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসন শাহজালালের দরগাহে থাকা তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করে এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করে। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম ১২ জুন শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এরপরই ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে দরগাহ এলাকায় ভক্ত ও খাদেমদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ওই দিন রাতে দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভও করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়।
এর মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে কারণ উল্লেখ না থাকলেও দানবাক্স ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে বলে আলোচনা রয়েছে।