
লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন বিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত এবং ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) নারায়ণ চন্দ্র।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বিদ্যালয়ের অদূরে তার নিজ বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির এক ছাত্রী তার কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে, বাসায় পরিবার না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি ও পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জুন ওই ছাত্রী বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অন্যদিকে, ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ জুন ওই ছাত্রীর পরিবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। গত ১৭ জুন দুটি ঘটনাই এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২১ জুন) দুপুরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে প্রধান শিক্ষক ও থানা পুলিশ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়।
এই ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
মজিবর রহমান নামের একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষকদের কাছে যদি মেয়েরা নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা তাদের কোথায় পাঠাব? আমরা এই দুশ্চরিত্র শিক্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও স্থায়ী বহিষ্কার চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক জাহিদ ইমাম শান্ত বলেন, "একটি চক্র আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ছাত্রীকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে।"
সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আরা সিদ্দিকা বলেন, "লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দুই নারী ও এক পুরুষ শিক্ষকের সমন্বয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আতঙ্ক কাটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে অভিভাবকদের সঙ্গে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।"
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম জানান, বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ব্যবস্থা নিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয় হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, "বিষয়টি আমরা শুনেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"