
নেত্রকোনার পূর্বধলায় পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা বিএনপির ২৯ জন চিহ্নিত নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা আদালতে হোগলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এমদাদুল হক আকন্দ বাদী হয়ে এই মামলাটি রুজু করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত প্রকাশ্য নিলাম চলাকালে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় ওই একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
জামায়াতের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর ও গুরুতর জখম করেন। আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দোকানপাট ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
বাদীপক্ষের দাবি, সংঘর্ষের সময় উশৃঙ্খল হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি মোটরসাইকেলেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত এই নালিশি অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুরো বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
‘মামলাটির বিষয়ে এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পাইনি। আদালতের নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থানায় পৌঁছলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে গত ২৫ মে পূর্বধলা থানায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেছিলেন আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ।