
চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ১০ মাস আগে, কিন্তু এখনো মেলেনি হাড়ভাঙা খাটুনির ন্যায্য পাওনা। বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক অধিকার আদায়ের দাবিতে অবশেষে রাজপথে নেমেছেন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি তৈরি পোশাক কারখানার হাজারো শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন তারা।
আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) পুরাতন জোনের প্রধান ফটকের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন ‘এক্টর স্পোর্টিং’ কারখানার ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। তাদের এই ন্যাচয দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন সাউথ চায়না লিমিটেড, গোল্ডট্রেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড এবং গোল্ডট্রেক্স টেক্সটাইল লিমিটেডের সাবেক শ্রমিক ও কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বছরের শেষের দিকে কারখানাগুলো আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর সমাধান মেলেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র আর্থিক অনটনের মুখে পড়েছেন তারা।
সেখানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানি আমাদের কোনো বেতন দেয়নি। তখন ইপিজেড কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল, কোম্পানি বেতন না দিলে তারা শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু ডিসেম্বরের ১ তারিখ হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ কোনো টাকা পায়নি।"
একই সুর শোনা গেল ভুক্তভোগী শ্রমিক গোলাম হোসেনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, "ইপিজেডের কর্মকর্তারা আমাদের বলেছিলেন, কোম্পানি পাওনা পরিশোধ করলে এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। নতুন সরকার গঠনের পরও আমাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।"
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, তারা নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে শ্রম মন্ত্রণালয়, বেপজা (BEPZA) এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) বরাবর লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো পক্ষ থেকেই কার্যকর কোনো সাড়া বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সুফিয়া আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, "বকেয়া টাকা না পেয়ে আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। সংসার চালাতে পারছি না। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ দিতে কষ্ট হচ্ছে। পাওনা টাকা পেলে অন্তত ধারদেনা শোধ করে ছোটখাটো কিছু করে বাঁচতে পারতাম।"
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য শ্রমিকরা জানান, আকস্মিক কর্মসংস্থান হারিয়ে তারা এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ঘর ভাড়া, সন্তানদের স্কুলের খরচ এবং নিত্যদিনের সংসার চালাতে তারা পুরোপুরি হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকের বয়স হয়ে যাওয়ায় নতুন কোনো কারখানায় চাকরিও মিলছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে তারা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।