
সারা জীবন যিনি কখনো এক ঘণ্টার জন্যও চাকরি করেননি, ৭৩ বছর বয়সে এসে তাকেই সামলাতে হচ্ছে বিশাল মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব। মন্ত্রীত্বের কাজ যে কতটা চ্যালেঞ্জিং এবং পাহাড়সম চাপের, তা এবার অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ও সাবলীলভাবে প্রকাশ করলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
শনিবার (২ মে) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সত্যকে চিনে নাও যুক্তির নিরিখে’ শীর্ষক আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৭৩ বছর বয়সে ‘প্রথম চাকরি’
নিজের দৈনন্দিন ব্যস্ততা এবং নতুন জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তার দীর্ঘ জীবনে তিনি আগে কখনো প্রথাগত পেশায় যুক্ত ছিলেন না। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার রুটিন আমূল বদলে গেছে।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীত্ব এতো কঠিন জানলে আমি দায়িত্ব নিতাম না। বাস্তব সত্য, অনেক বড়ো কঠিন কাজ। আমার সারা জীবনে আমি এক ঘণ্টার জন্য কোনোদিন চাকরি করি নাই। এই ৭৩ বছর বয়সে এখন ঢুকেছি চাকরিতে। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়, রাত ১১টায় ...।’
হিমালয়ের সঙ্গে লড়াইয়ের তুলনা
সততার সাথে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জকে হিমালয় জয়ের সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
মন্ত্রীত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা আপনি মনে করতে পারেন প্রতিটা মুহূর্তে হিমালয় পাহাড়ের সঙ্গে ফাইট করতেছেন। আপনাদের কাছ থেকে দোয়া চাই, প্রতিটা মুহূর্তে ফাইট করতে করতে পাহাড় ভাঙতে না পারি, একটু ছিদ্র করে হলেও যেন ওপারে চলে যাওয়ার সুযোগ করে নিতে পারি। তাইলে জাতি উপকৃত হবে, আপনারাও উপকৃত হবেন। আগামী প্রজন্মও উপকৃত হবে।’
মন্ত্রণালয়ে নিজের ব্যস্ততার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ তাকে আমন্ত্রণ জানাতে দুদিন সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম দিন কাজের চাপে কথা বলার সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় দিন তিনি তাকে সাক্ষাতের সময় দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁইঞার সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক। এছাড়া কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল মজিদ এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসানসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।