
বরিশালের মুলাদীতে এক বিধবা বৃদ্ধাকে পাশবিক নির্যাতন ও সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার এক রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু শারীরিক লাঞ্ছনাই নয়, আপত্তিকর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন স্বয়ং ওই বৃদ্ধা।
অভিযুক্তদের পরিচয়
মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন:
হালিম ব্যাপারী (৬০): চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জব্বার ব্যাপারীর ছেলে।
মাসুদ খন্দকার (৪০): একই গ্রামের মৃত সুয়াজেল খন্দকারের ছেলে।
ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হালিম ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরেই ওই বৃদ্ধাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় তিনি অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিতেন। অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে প্রতিকার চাইলে হালিম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের পৈশাচিকতা
গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হালিম ও মাসুদ কৌশলে ওই বৃদ্ধার ঘরে প্রবেশ করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে হালিম ব্যাপারী তাকে ধর্ষণ করেন এবং সেই সময় মাসুদ খন্দকার মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে মাসুদ খন্দকারও তাকে ধর্ষণ করেন।
ভয়াল সেই রাতের পর অপরাধীরা ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। লোকলজ্জার ভয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, ঘটনার আট দিন পর আদালতের আশ্রয় নেন ওই নারী।
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে হালিম ব্যাপারী ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মাসুদ খন্দকার বৃদ্ধার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিওটি বেশ কয়েকজনের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে টাকা দাবির বিষয়টি আমার জানা নাই।’
এদিকে মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও টাকা দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলার কপি থানায় পৌঁছে দিয়েছেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন যেন দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।