
দেশব্যাপী চলছে তীব্র জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জ্বালানি সঞ্চয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতির মধ্যেই তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের এক নেতা অর্ধশতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। এমন আয়োজন ঘিরে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিকের নেতৃত্বে প্রায় ৫০টি হাইয়েস ও ব্যক্তিগত গাড়ির একটি বহর বের হয়। বহরটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তার সমর্থকেরা স্লোগান দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন।
জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতেই এই শোডাউনের আয়োজন করেন মাসুদ রানা। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এমন আয়োজন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে এমন আয়োজনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরকার যখন জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন এই আয়োজনকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে দেখছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, “সংকটকালে সরকারি দল বা যারা দায়িত্বশীল জায়গায় আছে সংকট উত্তরণে তাদের সবার আগে এগিয়ে আসা বা কাজ করা উচিত। সেখানে ছাত্রদল নেতা যেটা করেছে সেটা একদমই কাণ্ডজ্ঞানহীন একটি কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় মিডিয়াকে ডেকে এ ধরনের কার্যক্রম লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা অন্যদেরও একই ধরনের কাজে উৎসাহিত করতে পারে।” এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা প্রামানিক বলেন, “জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার আগেই শোডাউনে অংশ নেওয়া গাড়িগুলোকে এডভান্স করা ছিল। এটা ঈদের আগে রোজার মাসে করার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। ঈদের পরে গাড়ি চালকদের ভাড়ার চাপ কম থাকায় তারাও বলছিল এখন প্রোগ্রামটা করলে তাদের জন্যও ভালো হয়। সেকারণেই আজকে প্রোগ্রামটা করা।” তিনি আরও দাবি করেন, “তাছাড়া শোডাউনে বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজি চালিত গাড়ি ছিল।”
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, বিষয়টি তিনিও দেখেছেন এবং এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকে ফোন করেছিলেন, তবে তিনি ফোন ধরেননি। তিনি বলেন, “বর্তমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে যেখানে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। সেখানে এতোগুলো গাড়ি ব্যবহার করা এটি নিসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।” তিনি জানান, বিষয়টি কেন্দ্রকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী সাশ্রয়ী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান এর মধ্যে অন্যতম।