
রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় চাপ বাড়েছে এ বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। একদিনের ব্যবধানে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৫০ শিশু। একই সময়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, ওয়ার্ডে একই বিছানায় ৩ থেকে ৪ জন রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, যেখানে হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা ৫০, সেখানে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০০।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে ২৮০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে পজিটিভ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৮। এই শিশুরা হামের নির্দিষ্ট কর্ণার ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডা. ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাস পর্যন্ত বয়সী শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী আসার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমিত সংখ্যক আইসিইউ সুবিধা দিয়ে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত জনবলও নেই।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর জানায়, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় অন্তত ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, পরীক্ষিত হয়েছে ৪১১ জন। পরীক্ষায় ১৩৭ জনের হামের সংক্রমণ পজিটিভ এসেছে।
এদিকে, সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ডা. রফিকুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও কেন হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।