
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির উল্টো নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এ কথা বলেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, “স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলসহ আমরা বিভিন্ন স্থানে শহীদদের স্মরণ করেছি এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি। এই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।”
“জাতীয় জীবনে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার প্রকৃত প্রত্যাশা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে আমরা মনে করি। একটি ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, সত্যিকারের স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন ছিল, তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বিদায় জানাতে গিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও অধিক ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হয়েছে। এরপরও আমরা সেই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। নতুন নতুন বাস্তবতা ও সংকট দেশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ আমরা আবারও নতুন করে শপথ নিতে পারি-নতুন সরকারের অগ্রযাত্রায় আমরা সবাই ভেদাভেদ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করব। সেখানে অবশ্যই বিরোধিতা থাকবে, তবে তা হবে যৌক্তিক বিরোধিতা; কোনোভাবেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো বিরোধিতা নয়। এমন কোনো কার্যক্রমে আমরা অংশগ্রহণ করব না, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বাই ধারণ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন একটি ফ্যাসিবাদী শক্তি বিদায় নিয়েছে, তখন আমরা কেন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারব না? অবশ্যই আমরা পারব-যৌক্তিক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই।”
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, “একই সঙ্গে আমি বীর শহীদদের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের অবদান আমরা কখনোই ভুলে যাব না। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা তাদের এভাবেই স্মরণ করে যাব।”
তিনি বলেন, “একটি বিষয় অত্যন্ত পরিতাপের- ইতিহাস বিকৃতি। আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, যাদের ১৯৭১ সালে ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, তারা আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু ২৫শে মার্চের সেই কালরাত্রি নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন-সেসবের পেছনে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ভূমিকা ছিল, যার ইতিহাস আজ বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।“
তিনি আরও বলেন, “এই ইতিহাস বিকৃত করে যদি কেউ নতুন করে বয়ান তৈরি করতে চায় এবং মনে করে ১৯৭১ বা ২৬শে মার্চকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করবে-তাহলে আমি মনে করি, তা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।”
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আজ যেমন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে- যার লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “এইভাবে একটি রাষ্ট্র যুগের পর যুগ চলতে পারে না। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই-তারা যেন ইতিহাসের প্রতি নিজেদের দায় স্বীকার করে, সত্যকে মেনে নেয়। এরপর তারা রাজনীতি করুক-এতে কোনো সমস্যা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যদি এই বিচ্যুতি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমার আশঙ্কা-ভবিষ্যতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।”