
নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের ইজারা ঘিরে প্রকাশ্যে উত্তেজনা—থানার ওসি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল অজিজের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের এক বছরের ইজারা নিতে ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা দরপত্র জমা দেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু।
ইজারা না পাওয়ায় রাজা ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈঠক শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা বের হওয়ার সময় ওসিসহ অন্যদের উপস্থিতিতে তপুর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি—এমন অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দপ্তরের সামনে এ ধরনের ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, "হাটের ইজারা না পেয়ে ইউএনও অফিসের সামনে সবার উপস্থিতিতে রাজা আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করব।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তার দাবি, এক বছর আগে তপুর কাছে তার পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং তিনি কেবল সেই অর্থ ফেরত চেয়েছেন। "পুলিশ প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা কেন চাইতে যাব?"—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি। তবে রাজা ক্ষোভের বশে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানান তিনি। তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।