
ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহীতে স্বতন্ত্র এক নারী প্রার্থীকে প্রকাশ্যে চড়থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করেছে বলে দাবি করেছেন তার নির্বাচনী এজেন্ট, যদিও পুলিশের বক্তব্য—অভিযোগের বিষয়টি দেখার সুযোগ এখনও হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের পবা উপজেলার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম–এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পবার হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী–র বিরুদ্ধে।
হামলার পর অসুস্থ অবস্থায় হাবিবা বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার শ্রবণশক্তি কমে গেছে এবং কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হাবিবা বেগম ছিলেন রাজশাহী জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। তিনি আগে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের আদেশে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।
তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন জানান, হামলার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করা হয়। এর আগে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সবকিছু শোনার পর পুলিশ হামলাকারীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ দূরে কথা বলে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে হাবিবা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আকবর হোসেনের দাবি, রাত আটটার দিকে কাটাখালী থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। বলা হয়, ওসি থানায় নেই, তাই মামলা নেওয়া সম্ভব নয়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযুক্ত রজব আলী বলেন, তিনি জানতেন না হাবিবা বেগম প্রার্থী। ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি একটি থাপ্পড় মারেন বলে স্বীকার করেন। তবে প্রার্থীর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, রাতে একজন অভিযোগ করতে এসেছিলেন, তবে তিনি তখন বাইরে ছিলেন এবং এখনও বিষয়টি দেখার সময় পাননি।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।