
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধারে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ৮টার দিকে ৪টি মোটরসাইকেলে আটজন নিশ্চিন্তপুর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। অতর্কিত হামলা চালিয়ে অফিসের টেবিল, চেয়ার ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এরপর অফিসের মধ্যে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু সেটি অবিস্ফোরিত থাকে। পরে পুলিশ এসে একটি ককটেল উদ্ধার করে।
এ ছাড়া, পৌরসভার হেলাই গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অন্য আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় আটজনের একটি দল। অফিসে থাকা চেয়ারগুলো ভাংচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দুইজনকে চিনে ফেলে।
হেলাই গ্রামের স্থানীয় যুবক নুর ইসলাম বলেন, রাত ৮টার দিকে মতিয়ার ও মোশাররফসহ আমরা তিনজন কাপ-পিরিচ প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ চারটি মোটরসাইকেলে আটজনের একটি দল এসে অফিসে ভাংচুর করে। এদের মধ্যে দুইজনকে চেনা গেছে। তারা ফয়লা গ্রামের শাওন ও মুন্না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বৃহস্পতিবার ফুরসন্দি ও ঘোড়শাল ইউনিয়নে ছিলাম। হঠাৎ শুনি নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের দুটি অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের চিনে ফেলেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আমার সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের মোবাইলে ফোন দিলে রিসিভ করেন রাকিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে পিএস পরিচয় দিয়ে বলেন, ১০ মিনিট পরে ফোন দিয়ে কথা বলিয়ে দেওয়া যাবে। তিনি ব্যস্ত আছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি অফিসে কেউ না থাকায় ভাংচুর করেছে। এ ছাড়া, একটি অফিসের মধ্য থেকে কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ককটেল কিনা পরীক্ষার পর বলা যাবে। খবর শোনা মাত্রই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অফিস দুটি পরিদর্শন করেছেন।