
দলবদলের পরদিনই ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি নির্বাচনী সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সভায় ‘দীর্ঘ বক্তব্য’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারীসহ পাঁচজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— লাবনী আক্তার (৪৫), ফাতেমা আক্তার (৩৬), অ্যাডভোকেট জাকারিয়া (৪০), লাভলু মোল্লা (৪৫), জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদালী আলী মোল্লা (৪০), ইসরাফিল মোল্লা (৪৫), আব্দুর রহমান (২০), আনোয়ার মোল্লা (৫০), শাহাবুদ্দিন মোল্লা (৫৫), শহিদুল মোল্লা (৩০), সুমন (২৮) ও রাজন (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা ইস্রাফিল মোল্যা এবং ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চান মিয়াকে ঘিরে দুটি পক্ষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনী সভা থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। ওই সভায় শহিদুল ইসলাম বাবুলের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাই বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিলে ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামের এক যুবক কটাক্ষ করে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে হাতাহাতি শুরু হলেও তখন সভাস্থলে উপস্থিত নেতারা পরিস্থিতি সামাল দেন।
এই ঘটনার রেশ ধরে বুধবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত অবস্থায় জাকারিয়া মোল্যাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় সংঘর্ষের কারণ জানতে চাইলে নিজেকে বিএনপি সমর্থক দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই আওয়ামী লীগ করি। গতকাল (মঙ্গলবার) ওরা বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগদান করে। ওই অনুষ্ঠানে আমার ভাই একটু সময় নিয়ে বক্তব্য দিলে শান্ত নামে একজন পেছন থেকে কটাক্ষ করে। এ সময় তর্কবিতর্ক হয়, এরপর আজ (বুধবার) আমাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে এবং আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।’
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে চান মিয়া বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই একটি ছোট ঘটনাকে বড় করে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, মঙ্গলবার ঘারুয়া ইউনিয়নে একটি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে বুধবার দুপুরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।