
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ঘরের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নবীন হোসেন নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নবীন হোসেন চেরাগ আলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মালেশিয়ায় থাকতেন। গত রমজানে দেশে ফিরে আসেন। এরপর স্থানীয় বুধাইরহাট বাজারে লোহার জানালা ও দরজা তৈরির ব্যবসা শুরু করতেন।
নবীনের মা রুবিনা বেগম বলেন, আমার ছেলেটি বুধইরহাট বাজারে ব্যবসা করত। এলাকায় নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থাকায় তাকে নিয়ে নড়িয়া উপজেলার একটি বাজারে গিয়েছিলাম নতুন দোকান দেখার জন্য। সে সন্ধ্যায় আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আর ফিরে আসেনি। এখন শুনতেছি, সে নাকি মারা গেছে। আমার ছেলেটাকে কে মারল, কেন মারল কিছুই বুঝতে পারছি না।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের খোঁজা হচ্ছে। বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নতুন নির্মিত একটি বসতঘরে ককটেল বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সেদিন সকালে সোহানের রক্তাক্ত মরদেহ পাশের গ্রামের সাতঘরিয়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে পাওয়া যায়। আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আরও দুজন। তাদের মধ্যে নবীন হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লার এখনও চিকিৎসাধীন।