
জুলাই যোদ্ধাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তাহরিমা জান্নাত সুরভীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করা আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান কামাল। তিনি বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের একটি চক্র জুলাই যোদ্ধাদের প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যেখানে সুরভীর বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগটাই মিথ্যা। সেখানে একটা শ্রেণী অতি উৎসাহী হয়ে শুধু জুলাইযোদ্ধা বলে সুরভীকে গ্রেফতার করেছে।”
সুরভীর জামিনের পরে এই মন্তব্য করেন আইনজীবী। জেলা জজ আদালত-১-এর বিচারক সোমবার সন্ধ্যায় রিভিশন শুনানির পর তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে, একই দিনে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেছিলেন। পরে ওই রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে রিভিশনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গত ২৫ ডিসেম্বর তার গাজীপুর টঙ্গীর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারির পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, ‘গুলশানের এক ব্যবসায়ীকে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আদায় করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাহরিমা জামান সুরভী ওই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিলেন। এ চক্রটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে।’
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হয়েছিল। চক্রটি আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয় দেখানোর পাশাপাশি ‘মীমাংসা’ প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করেছিল।
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান কামাল বলেন, “যেখানে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়ারই কথা না, সেখানে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এছাড়া তার জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী বয়স ১৭ বছর এক মাস। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর তার জন্ম। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে কিভাবে রিমান্ড দেওয়া হলো?” রিভিশন শুনানিতে ন্যায়বিচার প্রাপ্ত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সুরভীর চাচা মোহাম্মদ রাসেদ অভিযোগ করেন, “সাংবাদিক দুর্জয় সুরভীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল; তার ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছে। সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে অথচ ৫০ কোটি টাকা লিখতে কয়টি শূন্য দিতে হবে তাও সে বলতে পারবে না।”
মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় এবং তাহরিমা জান্নাত সুরভীর একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, সুরভীকে হোটেলে নিতে না পারায় দুর্জয়কে আক্ষেপ করতে শোনা গেছে।
এদিকে, তৃতীয় একটি পক্ষ দুর্জয়কে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছেন ইসমাইল সরদার। তিনি বলেন, “আমি কোনো প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি নই এবং আমি মব জাস্টিসের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করি। তবে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এ বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।”