
স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার বাইরে কোনো নির্দেশনা নেই—এ কথা স্পষ্ট করে বলেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো দুই নম্বরি কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, হবে না, হবে না, হবে না। যদি আপনাদের মধ্যে কেউ দুই নম্বরি কাজ করে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাদের নির্দেশনা হলো তিনটি- স্বচ্ছতা, নিরেপক্ষতা এবং দৃঢ়তা।”
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি আরও বলেন, “কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না, কোনো দিকে হেলে যাবেন না এবং কারো কথাতেই ভয় পাবেন না। কেউ ধমক দেবে আর আপনি ভড়কে যাবেন এটা হবে না। আপনি আইন অনুসরণ করে যেভাবে কাজ করতে হয় সেভাবে করবেন।”
তিনি বলেন, “এটি সবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। রাজনৈতিক ইন্সটিটিউটশন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশসহ সবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন।”
নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে কমিশনার বলেন, “ফ্যাসিস্ট ইলিমেন্টের লোকজন বন্ধু সেজে পাশে ভিড়ছে, এদের থেকে সতর্ক থাকার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আমরা যেটি দেখলাম, তাকে কিন্তু বন্ধু সেজেই হত্যা করা হয়েছে। আপনি যদি নিরাপত্তা সচেতন না হোন তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।”
রাজনৈতিক নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি অতীতের যেকোনো তুলনায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবার ভালোভাবে আচরণ বিধি মেনে চলছেন। একমাত্র ঢাকায় ওসমান হাদির ঘটনা ছাড়া আর কোন বড় ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি, অথচ আগের নির্বাচনগুলোতে সংহিস পরিস্থিতি ছিল। আশা করছি সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন স্বাভাবিকই থাকবে।”
নির্বাচন চলাকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ইসি বলেন, “নির্বাচন চলাকালীন কোনোভাবেই যেন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে—সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর থাকতে হবে। সবাইকে নজর রাখতে হবে যে ভোট চলাকালীন রোহিঙ্গারা যেন ক্যাম্পের বাইরে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। রোহিঙ্গারা রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে আটক হলে সেই দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে রোহিঙ্গাদের নয়। কারণ তারা গ্রেপ্তার হলে আবার বেরিয়ে আসবে, তাই দলগুলোকেও সতর্ক থাকতে হবে।”
এ সময় তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও সন্ত্রাস দমনে শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। পাশাপাশি গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা জোরদার করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীবের সভাপতিত্বে এবং উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমার সঞ্চালনায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।