
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন খোকন দাস নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ী। ছিনতাইয়ের সময় হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তারা পেট্রোল ঢেলে ওই ব্যবসায়ীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। বুধবার রাতে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত খোকন দাস কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের পরেশ দাসের সন্তান। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধের ব্যবসার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে পৌঁছালে তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা খোকন দাসকে কুপিয়ে জখম করে সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তারা তার মুখ ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার আগে আহত খোকন দাসের একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবুল খাঁর পোলা সোহাগ ছিল। সামসুদ্দিনের পোলা ছিল। ওরা তিনজন ছিল, আমি একজনরে চিনছি। ওদের মধ্যে একজনে আমারে আগুন দিছে। সামসুদ্দিনের পোলা বলছিল কাকা আমিই।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহতের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে দৌঁড়ে এসে দেখি তার শরীরে আগুন জ্বলছে। তার শরীরে আর মাথায় কোপানো হয়েছে। আমার স্বামীর অবস্থা খুবই খারাপ। যারা আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রশাসন যেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনে।’
চিকিৎসকদের মতে খোকন দাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘রোগীর মাথা এবং হাত আগুনে পোড়া ছিল। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান ও পেটে আঘাত করা হয়েছে। পেটের আঘাতটি গুরুতর। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আহত ব্যক্তি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে কিছু লোক তার থেকে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। তিনি চিনে ফেলায় তাকে কোপানো হয় ও কেরোসিন জাতীয় কিছু দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’