
রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় দীর্ঘদিনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এ এলাকায় গ্যাসের সংকট স্বাভাবিক নয়; পরিকল্পিতভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক উদ্যোগ নিলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার বিকেলে ‘শ্যামপুর-কদমতলীর বিক্ষুব্ধ জনতা’র ব্যানারে জুরাইন রেলগেটের বিক্রমপুর প্লাজার সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্যাস সংকট নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ
সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় গ্যাস সরবরাহের যে সংকট চলছে, তা কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন নয়।
এ সময় আরও অভিযোগ করা হয়, তিতাসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিলেই সংশ্লিষ্ট বাড়ির গ্যাসের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা নিজেদের এই ‘ধান্দাবাজি’ অব্যাহত রাখতেই গ্যাসের সংকটকে দীর্ঘায়িত করছেন। সংকটের স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে এটি জিইয়ে রেখে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিদ্যুৎ সরবরাহেও বৈষম্যের অভিযোগ
বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়ে থাকে, তাহলে উন্নত এলাকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্যামপুর-কদমতলীতেও লোডশেডিং দিতে হবে। কোনোভাবেই এ এলাকায় অন্য এলাকার তুলনায় বেশি সময় লোডশেডিং করা যাবে না।
বক্তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাই আর দেরি না করে দ্রুত এ দুটি সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের নিরসন করা না হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং গ্যাস সরবরাহের কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে বক্তব্য দেন বাছির আলী, শিপন, সোহাগ রায়, সাগর ইসলাম, মোহাম্মদ ফিরোজ আলম মামুন, মাহাবুবর রহমান শিপন ও মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি জুরাইন-দোলাইপাড়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।