
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবি নিয়ে রাজধানীর মতিঝিলে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা—এস আলম গ্রুপের হাতে পাঁচ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিক্ষোভকারীদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল, এস আলমের কাছে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা।
জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলসহ দেশের নানা এলাকা থেকে আসা কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। অংশগ্রহণকারীরা গত দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং শনিবার রাতেও শতাধিক মাইক্রোবাসে করে আরও লোকজন রাজধানীতে পৌঁছান বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পটিয়ার আল-আমিন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দ্রুত আমাদের চাকরি ফেরত দিতে হবে।”
অন্যদিকে, একটি গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। সে সময় বৈধ মালিক ও বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার ফলে দেশের অন্যান্য জেলার প্রার্থীরা বঞ্চিত হন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাকা হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।