
দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের টয়লেট থেকে ১৮ কেজি ওজনের ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করছে পুলিশ। এই বড় মাপের চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের পাইলট, কেবিন ক্রু, কারিগরি স্টাফ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সকল আরোহীর খুঁটিনাটি তথ্য তলব করা হয়েছে। একই সাথে বিমানের অভ্যন্তরীণ সিসিটিভি ফুটেজ, বোর্ডিং ব্রিজ ও রানওয়ে এলাকার ভিডিও চিত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা ৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৮। সি-০২ বোর্ডিং ব্রিজে বিমানটি নোঙর করার পর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে পুলিশি তদন্ত চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম জানান, সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে, পুলিশের চিঠিতে ওই ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের নাম-ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) চাওয়া হয়েছে। বাদ যাননি বিমানের কারিগরি মেকানিক, সহকারী ও ক্লিনিং স্টাফরাও।
তদন্তের স্বার্থে ওই দিনের সকল যাত্রীর তালিকা, পাসপোর্ট নম্বর এবং তাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই বিশাল পরিমাণ তথ্যাদি হাতে এলে এবং ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত মূল চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।