
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে এক ছোট দল। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সালাম জানান।
শনিবার দুপুরে সাত-আটজনের একটি দল কার্যালয় ভবনের সামনে আসে। এই ভবনে প্রায় দেড় বছর ধরে ঝুলছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ লেখা একটি ব্যানার।
এক ফুটপাতের ব্যবসায়ী জানান, দলটি জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে সালাম জানান। পরে তারা পতাকাটি বিদ্যুতের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যান। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পতাকা আর দেখা যায়নি।
ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী সলিমউল্লাহ ব্যাপারী বলেন, “সাত-আটজন লোক ছিল, তারা বিভিন্ন পেশার—রিকশা চালক, ফুটপাতে ব্যবসায়ী ও হকার। তারা আমাকে বলেছিল, এখন আর রাজাকার নেই, তাই আমরা অফিসে এসে পতাকা উড়াচ্ছি।”
প্রতিবেশীরা বলেন, তারা ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি, শুধু শুনেছেন। পতাকা কেন নেই জানতে চাইলে তারা মনে করেন কেউ হয়তো তা খুলে নিয়ে গেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছাত্র-জনতার রোষের মুখে পড়ে। ভবনটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়। ছিন্নমূল মানুষ, রিকশা-ভ্যানচালক এবং পথচারীরা এটিকে শৌচাগার ও নেশার স্থান হিসেবে ব্যবহার করত।
এরপর ভবঘুরে একটি দল ভবনটি দখল করলেও পরে ‘ছাত্র’ পরিচয়ধারী আরেক পক্ষ এখানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দেয়। প্রধান ফটকে লাল ব্যানারে লেখা হয়েছে—‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’। তবে সরকারের তরফে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নাম পরিবর্তন করে এখন এটি ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’ নামে পরিচিত। কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও তেঁজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা কার্যালয় ও ধানমন্ডির সভাপতির কার্যালয় আগুন ও লুটপাটের শিকার হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
নির্বাচনের আগে এবং পরে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবারও মাঠে এসে ছোট ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি চালিয়েছেন। তবে আশপাশের হকার ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভোট ও গণভোটের আগে থেকে ভবঘুরে আনাঘোনা কমেছে এবং ‘ছাত্র নামধারী’ দলটির উপস্থিতিও কমে এসেছে।