
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সার্কিট হাউসে ফিরে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিন্ডিকেট সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়ালি এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সভায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো সদস্যই নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেননি।
চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, উপাচার্য সন্ধ্যা ৬টায় অনলাইনে সভা ডেকেছেন। তিনি ছুটিতে থাকায় এতে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন জানান, তিনি সভা আহ্বানের বার্তা পেয়েছেন। তবে শুধু মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা ডাকার প্রক্রিয়া নিয়মসম্মত কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তাঁর ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি পাঠানো হয়।
এদিকে, চুয়েটের রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সিন্ডিকেট সভা ডাকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে অচলাবস্থা
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপাচার্যের ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা।
একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত
আন্দোলন চলার মধ্যেই গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে ঢোকেন তিনি।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন তাঁরা। পরে দুপুর ১২টার পর ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ১১ জন আটকা পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুক্ত হন উপাচার্য।
মুক্ত হওয়ার পর জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় এক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি সার্কিট হাউসে ফিরে যান। সেখানেই ফেরার পর অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন তিনি।