
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান ধর্মঘট পালনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগতদের বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা
সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কর্মসূচি চলাকালীন দুমকি উপজেলার একদল যুবকের নেতৃত্বে বহিরাগতরা লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের তালিকা ও বর্তমান অবস্থা
হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক ড. আব্দুল মালেকসহ আরও অনেকে। এছাড়া অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন এবং বেশ কয়েকজন ডেপুটি ও সহকারী রেজিস্ট্রারও এই হামলার শিকার হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্য
আন্দোলনকারীদের দাবি, উপাচার্য নিজেই বহিরাগতদের ভাড়া করে এই হামলা করিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। আমাদের শিক্ষক কর্মকর্তাদের উপাচার্য হয়রানি করে আসছেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে বসার জন্য আজকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলাম। তবে হঠাৎ করে ভিসি বহিরাগতদেরকে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করিয়েছেন।’
অন্যদিকে, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে জরুরি কাজে বের হয়ে আসছি। পরে জানতে পারি এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের চিনিও না।’
দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ভিসি বিরোধী মানবন্ধন চলাকালে প্রতিপক্ষ হামলা চালালে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
বিকালে টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা ঘোষণা করেন, হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত পবিপ্রবির উভয় ক্যাম্পাসে সকল প্রকার ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন করা হবে। এছাড়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।