
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’-এর মত সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় সামনের মাসের মাঝামাঝিতেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে ও এক্ষেত্রে ইরানকে এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে ও এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।"
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
২০২৪ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইসরায়েলের সংঘর্ষে সরাসরি জড়ায়। সেই সময়ে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অপারেশন পরিচালনা করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এরপর থেকে যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরান সরকার বিক্ষোভ দমন শুরু করলে ট্রাম্প সামরিক হুমকিও দেন। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হওয়ায় তিনি হামলার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন।
এদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে বিশাল সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে। তাদের মধ্যে ছিল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক রণতরী।
গত জানুয়ারির শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধি দল। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনা ইতিমধ্যেই ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি