
আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে গঠন করা হতে যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো। বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনেই সংসদীয় এই কাঠামো পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। এবারের কমিটিগুলোতে সভাপতি পদে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকারি দল। বিশেষ করে যারা বিগত সময়ে সংসদে ছিলেন কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি, তাদের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে। এছাড়া নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও আইন বা অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষদের সভাপতি করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে সংসদে বিরোধী আসনে থাকা জামায়াত-এনসিপি জোট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে সভাপতি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ৫ কমিটি
জাতীয় সংসদে সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থায়ী ও বিশেষ কমিটি থাকে। যার মধ্যে প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের জন্য গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীন এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া গঠিত অন্য কমিটিগুলো হলো:
কার্য উপদেষ্টা কমিটি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সংসদ কমিটি: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি: এর নেতৃত্বে রয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তোড়জোড়
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ও শপথ শেষ হওয়ায় বর্তমানে সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৪৮ (দুটি আসন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন)। পূর্ণাঙ্গ সংসদ গঠিত হওয়ায় এখন সবগুলো স্থায়ী কমিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাজ করছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও অন্যান্য হুইপরা। একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সংসদ নেতার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
ইতিমধ্যেই কাঙ্ক্ষিত মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেতে বা সভাপতি পদ পেতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে জোর লবিং শুরু হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্যদের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও পছন্দের কমিটিতে জায়গা পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা।
সভাপতির ক্ষমতা ও সুবিধা
সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রটোকল বা নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও তারা বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করেন। তারা সরকারি গাড়ি না পেলেও নিজ গাড়িতে জাতীয় সংসদের পতাকা ব্যবহারের অধিকার রাখেন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান পান। সংসদ ভবনে তাদের জন্য থাকে সুসজ্জিত অফিস এবং একান্ত সচিব হিসেবে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় জনবল।
সংসদীয় ব্যবস্থার সৌন্দর্য হলো, কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকেন এবং কমিটির কাছে কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, যেকোনো তথ্য বা ফাইল তলব করার ক্ষমতা রাখে এই কমিটিগুলো। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সুপারিশ ও পরামর্শ দেওয়ার সর্বময় ক্ষমতা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির হাতে ন্যস্ত থাকে।