
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দরুন পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাসের রুদ্ধশ্বাস ও মানসিক যন্ত্রণাময় বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ ১৭ জন নাবিক একযোগে অব্যাহতি নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করে তাঁদের মধ্যে ১৬ জন নাবিক আজ মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন।
বিমানবন্দর ও বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৬ জন নাবিককে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অন্যদিকে, জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান দেশে না ফিরে নিজস্ব ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটাতে হয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’য় থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুকে। ডারবান বন্দরে জাহাজটি পৌঁছানোর পর নতুন দলের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে প্রথম ধাপে ১৭ জন নাবিক আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।
বিগত দিনগুলোর বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান:
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধকালীন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন তারা। এ জন্য মানসিক চাপে আছেন অনেক নাবিক। ৩১ নাবিকের মধ্যে তাই প্রথম দফায় ১৭ জন নাবিক বন্দর থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তাদের পরিবর্তে ১৫ জন নতুন নাবিক জাহাজের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মাঝেও তাঁরা বিচক্ষণতার সাথে জাহাজটিকে নিরাপদে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভিড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানান, ডারবান বন্দরে নিয়ে যাওয়া পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেখানে নতুন করে চিনি বোঝাই করা হবে। পরবর্তীতে নতুন নাবিকদের নিয়ে জাহাজটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধাঞ্চলে আটকা পড়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি বাংলার জয়যাত্রা। চোখের সামনে ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল হামলার মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক চরম সাহসিকতার সাথে নিজেদের ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও বাণিজ্যিক পর্যালোচনার পর গত ২২ জুন হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পায় জাহাজটি। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর হয়ে গত ১৬ জুলাই এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরে অক্ষত অবস্থায় নোঙর করে।