
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আদালত তাঁর স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণের ওপর থাকা বিধিনিষেধও তুলে নিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা ও শুনানি
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। এদিন মামলার নির্ধারিত তারিখে আনিস আলমগীর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হন। তাঁর আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি তিনটি পৃথক আবেদন পেশ করেন—স্থায়ী জামিন, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি এবং ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি। শুনানি শেষে বিচারক প্রথম দুটি আবেদন মঞ্জুর করলেও ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের অনুরোধটি নাকচ করে দেন এবং ভবিষ্যতে তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহার অনুযায়ী, তাঁর নামে মোট ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকার তথ্য মিলেছে। ফলে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
আগের আইনি জটিলতা ও কারাবাস
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল এবং ১১ মার্চ তিনি সাময়িক জামিন লাভ করেন। দুদকের এই মামলার আগে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছিলেন আরিয়ান আহমেদ। সেই মামলায় ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং ২০ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান তিনি।
আজকের এই আদেশের ফলে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিদেশ যাওয়ার পথ সুগম হলো, যা তাঁর আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।