
জলবায়ুর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যেই শক্তিশালী ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার এটি ‘সুপার এল নিনো’ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাবে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের সামুদ্রিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, ‘এল নিনো’ হল একটি জলবায়ুগত অবস্থা। এই প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, ফলে আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক পরিবর্তন তীব্র হয়ে ওঠে।
সোমবার (১১ মে) আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সুপার এল নিনো সক্রিয় হলে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আচরণ ও বিচরণ এলাকায় পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সমুদ্রজীববিজ্ঞানীদের ধারণা, উষ্ণ পানির কারণে হাঙরসহ কিছু সামুদ্রিক প্রজাতি তাদের স্বাভাবিক আবাস ছেড়ে আরও উত্তরের দিকে সরে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রেট হোয়াইট, মাকো ও থ্রেশার শার্কের মতো প্রজাতির চলাচল বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একজন সামুদ্রিক গবেষক জানান, তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রজাতির হাঙর উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে এবং তাদের অবস্থানকালও দীর্ঘ হতে পারে। সাধারণত যেসব প্রজাতি উপকূলের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, তারাও নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানিয়েছেন, হাঙরের উপস্থিতি বাড়লেও সমুদ্রসৈকতে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয় না। তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক দশকে হাঙর সংক্রান্ত আক্রমণের ঘটনা খুবই সীমিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা বিরল।
তারা আরও বলেন, সৈকতে সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বন, ঘোলা পানি এড়িয়ে চলা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চললে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মধ্যে সুপার এল নিনোর এই সম্ভাবনা নতুন করে সামুদ্রিক পরিবেশ ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে।