
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে মুমিনুল হকের উইকেট হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ বাংলাদেশের মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রান।
রোববার (১৭ মে) দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে খুররম শেহজাদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। ৬০ বলে ৩০ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার আউটের পরই দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
এর আগে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে ৪৬ রানে। নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামের আক্রমণ সামলাতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৫ রানে খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৭ বলে ৪ রান করেন তিনি।
শুরুর চাপ সামাল দেন মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক। দুজন মিলে গড়েন ৭৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দীর্ঘ সময় পর টেস্টে ফিফটির দেখা পান জয়। ৫৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ডানহাতি ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ৫২ রান করে ফেরেন। ইনিংসটি ছিল আক্রমণাত্মক, তবে সেট হওয়ার পর বড় ইনিংসে রূপ দিতে না পারায় আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।
জয়ের এই ফিফটি এসেছে দীর্ঘ অপেক্ষার পর। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের পর এই প্রথম টেস্টে পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি। অর্থাৎ প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে আবারও ফিফটির দেখা পেলেন বাংলাদেশি ওপেনার। এমন ইনিংসকে শতকে রূপ দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা, বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ফিফটি থেকে শতকে রূপান্তরের হার দীর্ঘদিন ধরেই হতাশাজনক।
জয়ের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে সতর্কভাবে খেলতে থাকেন মুমিনুল। দিন শেষে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন শান্ত। হাতে এখনও ৭ উইকেট থাকায় তৃতীয় দিনে বড় লিড গড়ার দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।