
উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা শহরের আল-অকতান জেল এখন সিরিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানায়, কারাগার ও সংশোধন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জেলটি দখল করে বন্দীদের অবস্থার পাশাপাশি তাদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালিত সানা সংবাদ সংস্থা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জেল দখল চতুর্থ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, যা সিরিয়ার সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ-এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সিরিয়ার সেনারা দ্রুত রাক্কায় অগ্রসর হয়ে এসডিএফ-এর দীর্ঘদিনের দখলভূমি পুনরায় দখল করে। পরে জেল এবং আশেপাশের এলাকা থেকে এসডিএফ সদস্যদের আয়ন আল-আরাব শহরে স্থানান্তর শুরু হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, এসডিএফ-এর প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার সেনারা নিরাপত্তার শূন্যতা দ্রুত পূরণ করেছে। জেল ভেতরে বিস্ফোরক পদার্থ সরানো হচ্ছে এবং দখল তুলনামূলকভাবে সহজভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি বিরল ঘটনা যেখানে উভয় পক্ষ—এসডিএফ ও সিরিয়ার সেনাবাহিনী—সফলভাবে সহযোগিতা স্বীকার করেছে।
বাসরাভি আরও জানান, জেলের আশেপাশে সংঘর্ষ কমে পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে স্থানীয়রা এখনও তাদের আত্মীয়দের অবস্থার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। কিছু পরিবার দাবি করেছেন, তাদের আত্মীয়দের এসডিএফ অনিয়মিতভাবে আটক করেছে।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় বলেছে, বন্দিদের রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে। তবুও সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাটেনি, বিশেষত কুর্দি-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে অস্ত্র ও শাসন ব্যবস্থার পুনঃএকীকরণের প্রক্রিয়ায়।
বিশ্লেষক আর্মেনাক টোকমাজিয়ান মনে করেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারা ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকদের জন্য বড় অর্জন। তবে কুর্দি সংখ্যালঘুর পুনঃএকীকরণ এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।