ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান, বিক্ষোভ আর অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল সরকারি তিতুমীর কলেজ। ছাত্রদল-শিবিরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, হল সিট বাতিলের অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক আধিপত্যের সংস্কৃতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, মতের বিরোধিতা করলেই শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে কলেজের মূল ফটক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ‘হল কারও বাপের না, রাজনীতি চলবে না’ এবং ‘সিট কাটার ভয় দেখিয়ে, দমন করা চলবে না’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিতুমীর কলেজের শহীদ মামুন হলে ছাত্রদলের একটি কমিটি ঘোষণার পর এর বিরোধিতা করেন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী। পরে ওই হলের তিন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ আরও বিস্ফোরিত আকার নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী শিক্ষার্থীরা তালাবদ্ধ ছাত্রীনিবাস থেকে বের হয়ে প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। অনেককে ক্যাম্পাসের গেটে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনকে কলেজে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না।
তিতুমীর কলেজে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক সংঘর্ষ, হামলা ও দলীয় দ্বন্দ্বের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। এর আগে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত কয়েক মাসে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা এবং কমিটি নিয়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তাদের মতে, একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর আধিপত্যের লড়াই, এই দুইয়ের মাঝে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
কিছুদিন আগেও কলেজটিতে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন এখন ধীরে ধীরে ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ দাবির সঙ্গে মিশে গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসে নতুন শক্তির পুনর্বিন্যাস, হল নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তিতুমীর কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বৃহত্তর অস্থিরতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হল নিয়ন্ত্রণ, সিট বাণিজ্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।