
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নির্যাতন আর চাপের মাঝেও অভিযোগের ভাষা পরিহার করে যিনি সৌজন্য ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, সেই খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে স্থায়ী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
সোমবার ১২ জানুয়ারি ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
মার্শা বার্নিকাট স্মৃতিচারণায় বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং কঠিন সংকটের মধ্যেও তিনি সব সময় হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক ছিলেন। তার ভাষায়, “খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল এবং আন্তরিক। তিনি ছিলেন খুবই অমায়িক প্রকৃতির মানুষ এবং বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।” একজন নারী নেত্রী হিসেবে তার ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন বার্নিকাট। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ খালেদা জিয়ার অবদান ও উত্তরাধিকার শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।” এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বন্দিত্বকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্টের তথ্যের কথাও উল্লেখ করেন।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মানবিক ও অমায়িক চরিত্রের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যেও তিনি সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। অন্যদের জন্য তার দ্বার ছিল অবারিত। আমার দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিরোধী দলে থাকলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সহজ করে রেখেছিলেন।” ড্যান মজেনার মতে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নের স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।”
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা তার বক্তব্যে বলেন, “গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।”
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন এপির সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বক্তারা একযোগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।