
গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে সফটওয়্যারে জমার তথ্য দেখানো হতো। আবার প্রতিষ্ঠানের মালিকের সই করা ফাঁকা চেকে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এভাবে সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মামলা
সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার সময় পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় থেকে সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) এবং সৈয়দ আরব আলী (৫২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সরানোর অভিযোগ
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে পার্থ সারথী হালদার ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহারসহ অর্থ সরানোর আরও কয়েকটি পদ্ধতির তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই ধরনের কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। অর্থ আত্মসাতের পুরো ঘটনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।