
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাকে সরকারের ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিরোধী অবস্থান’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেছেন, কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা থাকলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনও নীতিগত অবস্থান নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় কিছু আলেম-ওলামার আপত্তির পর অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘বাংলাদেশে ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরেই কোনও কোনও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কিছু গোষ্ঠীর আপত্তি দেখা গেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে বসবাস করবে, সেটি সমাজই নির্ধারণ করবে। কিছু মানুষ মাঝে মাঝে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশ কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে। তাহলে সরকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কি না? জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও কনসার্ট বাতিল হলেই তার অর্থ এই নয় যে সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছে।’
তিনি বলেন, ‘হয়তো সেখানে নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনও বিষয় ছিল। অন্য কারণও থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।’
এ সময় তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই কোনও অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে। সব ক্ষেত্রে কোনও গোষ্ঠীর আপত্তিই একমাত্র কারণ— এভাবে দেখার সুযোগ নেই। দেশে এখনও অনেক বড় কনসার্ট এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এটাকে ধারাবাহিক ঘটনা বলবো না।’
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার এবং ধারাবাহিকভাবে ঘটছে।
জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, তিনি বিষয়টিকে ধারাবাহিক বা লাগাতার ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ ধরনের যত ঘটনা ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বলবো, নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। আমি বলছি না যে এখন একটি ঘটনাও ঘটছে না। কিছু ঘটনা এখনও ঘটছে।’
তিনি বলেন, দেড় থেকে দুই বছর ধরে যখন কিছু গোষ্ঠী এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছে, তখন পরিস্থিতি রাতারাতি পুরোপুরি বদলে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যতটুকু উন্নতি হয়েছে, তিনি সেটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। বাকি সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, সংস্কৃতিচর্চাকে আরও বিস্তৃত করা এবং সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী ও মনোযোগী বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।