
একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। জনগণের প্রত্যাশাকে বাঁচিয়ে রাখা এবং রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য মুক্ত গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই—বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রি-ইস্টার্টেড স্টেট’ ও নতুন প্রত্যাশা
বিগত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছিল। একটি রক্তাক্ত পরিস্থিতির পর রাষ্ট্রকে নতুন করে শুরু করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পলিটিক্যাল প্রসেস এমনভাবে হ্যাং হয়ে গিয়েছিল যে, একটি রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে আমাদের নতুন করে রি-ইস্টার্ট করতে হয়েছে। জনগণ অবাধ ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ ‘রি-ইস্টার্টেড স্টেট’ নতুন এক আশাবাদের সৃষ্টি করেছে।”
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ
রাষ্ট্রের কাঠামোতে গণমাধ্যমের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন নর্ডিক দেশগুলোর উদাহরণ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমই সমাজকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখে। মন্ত্রীর ভাষায়, “অক্সিজেন ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি সভ্য সমাজের অক্সিজেন হলো ক্লিন ইনফরমেশন। দূষিত তথ্য সমাজকে অসুস্থ করে তোলে।”
তিনি বর্তমান ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক করে বলেন, এখন তথ্য প্রবাহে বাধার চেয়ে বড় সংকট হলো তথ্যকে আদর্শিক রঙে রাঙিয়ে পরিবেশন করা। এই ‘ডিজিটাল ভাইরাস’ মোকাবিলায় এনালগ মানসিকতা ত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের অধিকার ও মালিকপক্ষের দায়িত্ব
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে অতীতে কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল যা ছিল দুঃশাসনের নজির। তিনি সাংবাদিকদের বেতন ও সম্মানের বিষয়ে মালিকপক্ষকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো পণ্য উৎপাদন করেন না, তারা নিউজ মেক করেন। আপনাদের উৎপাদিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করেই মালিকপক্ষ ব্যবসা করে।”
আবদুল হাই শিকদারের পর্যবেক্ষণ
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, বর্তমানে সরকারি সেন্সরশিপ আগের মতো নেই। তিনি বলেন, “বর্তমানেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ সম্পাদনার ক্ষেত্রে কোনো বৈরী নির্দেশনা বা হস্তক্ষেপ পাইনি।” তবে তিনি সাংবাদিকদের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা আত্ম-সেন্সরশিপের প্রবণতাকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করেন।
ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পিআইডির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মারুফ কামাল খান সোহেল, কাদের গণি চৌধুরী, ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক এবং বাসির জামালসহ সিনিয়র সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।