
শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করার প্রতিবাদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ছাত্র শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বাধা প্রদানে ক্যাম্পাস ঘিরে হট্টগোল দেখা দেয়।
২৮ জানুয়ারি (বুধবার) দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ছাত্রশিবির সভাপতি জান্নাতীন নাঈম জীবনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গসংগঠন বিরুদ্ধে কিছু স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিল চলাকালীন সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল-০২-এর সামনে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি বিক্ষোভ মিছিল থামিয়ে শিবির সভাপতি জীবনকে বিএনপি এবং ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন।
সোহেল রানা জনি জানতে চান, আজকের হত্যাকাণ্ডে বিএনপি জড়িত এ ব্যাপারটা প্রমাণিত হয়েছে কিনা। এ সময় ছাত্রশিবির সভাপতি ও ছাত্রদল সেক্রেটারি পরস্পর বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সেসময় শিবির সভাপতি জীবন কথা অসমাপ্ত রেখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন এবং মুক্তবাংলার সামনে তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জড়ো হন।
মুক্তবাংলায় মিছিল পরবর্তী জমায়েতে শিবির সভাপতির বক্তৃতা চলাকালীন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ রাতুল ও সেক্রেটারি জনি তার কর্মীদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে করতে এগিয়ে আসেন। শিবির সভাপতির সঙ্গে অনেক সময় ধরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে বাকবিতন্ডা ও হট্টগোল বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসে মুক্ত বাংলা চত্বরে।
এ সময় দায়িত্বরত এক ক্যাম্পাস সাংবাদিককে তার দায়িত্ব পালনে বাধা স্বরূপ ভিডিও বন্ধের জন্য বারবার হাত দিয়ে ইশারা করতে থাকেন ছাত্রদল সেক্রেটারি সোহেল রানা জনি। এ সময় তাচ্ছিল্যের স্বরে ‘তুই-তোকারি’ করে সেই সাংবাদিককে সরেও যেতে বলেন জনি।
এরপর ক্যাম্পাসে উভয় দল সহাবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল সেখান থেকে তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় তারা শিবিরের বিভিন্ন স্লোগানের বিরোধিতা করেন। তাছাড়া শিবিরের কাজের সমালোচনাও করেন তারা।
পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল বলেন, "জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অশ্লীল স্লোগান কোন ভাবেই আমরা মেনে নেব না। আমরা এর প্রতিবাদ জানাব। ইসলামি ছাত্রশিবিরের এই ‘মব কালচার’কে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহ-অবস্থানের একটি সুস্থ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।"
ছাত্রশিবিরের সভাপতি জান্নাতীন নাঈম জীবন বলেন, "আমাদের কার্যক্রমে বাঁধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমার মতাদর্শ প্রচারের স্বাধীনতা আমার আছে। কিন্তু গতকাল ছাত্রদল কিছু অছাত্র নিয়ে এসে আমাদের জনশক্তিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিনষ্ট করেছে।
একজন মানুষকে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ নৃশংস হত্যার বিচার চাই এবং ভিন্ন মতকে দমনের উদ্দেশ্যে নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই।"
এদিকে, গত ১৪ আগস্ট ২০২৪, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে সকল প্রকারের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি (বুধবার) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসার নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের উপর বিএনপির সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, ফলে তিনি নিহত হন। উক্ত ঘটনার পরেই শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়।