
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজয়া দশমীর দিন দেশব্যাপী, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নদী ও পুকুরে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভক্তরা দেবীর পাদপদ্মে অঞ্জলি অর্পণ করে বিজয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। এরপর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে পুরো পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের মন থেকে আসুরিক প্রবৃত্তি যেমন কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা দূর করাই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সাধন করে।
পুরান ঢাকার লক্ষীবাজার থেকে আসা নবনীতা বর্মণ জানান, “এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। মা দুর্গা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই আনন্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ। কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছরের অপেক্ষা। এবারের পূজায় আমি বিশেষ প্রার্থনা করেছি যেন আমাদের দেশ শান্তিময় হয়, সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসে।”
ধানমন্ডি থানার পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানাতে এসেছি। মা আমাদের ধরাধামে এসেছিলেন আমাদের মঙ্গলের জন্য, অসুর বধ করার জন্য। আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, যাতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। আগামীতে দেশ যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং সব মানুষের মঙ্গল হয়, এটাই মায়ের কাছে প্রার্থনা ছিল।”
এবার রাজধানীর ১০টি ঘাটে দুর্গাপূজার ২৫৪টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে। নির্বিঘ্নভাবে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির ৭ হাজার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে টহল দিচ্ছে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড।
রাজধানীর মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর ১০টি ঘাটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হবে বিনাস্মৃতি স্নান, ওয়াইস ও নবাববাড়ি ঘাটে। এছাড়া লালকুটি, মিলব্যারাক, পোস্তগোলা শ্মশান, বসিলা ব্রিজ, আমিনবাজার ও আশুলিয়ার ধউরে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিঘাটেও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে।