
দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। একই সঙ্গে বৈঠকে আরও ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা আন্তর্জাতিক ও কারিগরি জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হয়। সর্বশেষ সংশোধিত অনুমোদনে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বাড়তি এই ব্যয়ের পুরো অর্থই প্রকল্প ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে।
ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বাড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।’
একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।