
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা সিসির (cc) ওপর নির্ভর করে মোটরসাইকেলের অগ্রিম আয়কর (AIT) একলাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে চালকদের মাঝে। সরকারের এমন আলোচনার প্রতিবাদে এবং এই প্রস্তাবনা বাতিলের দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন দেশের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।
আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনবিআর ভবনের সামনে সাধারণ বাইকাররা সমবেত হয়ে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
উদ্বেগের কারণ: কোন সিসিতে কত করের প্রস্তাব?
আন্দোলনকারী বাইকারদের পক্ষ থেকে পেশ করা স্মারকলিপিতে আসন্ন বাজেটের একটি খসড়া হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী—
১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ২ হাজার টাকা;
১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি ইঞ্জিনের জন্য প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা; এবং
১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বের সব বাইকের জন্য বার্ষিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, এই বিশাল অঙ্কের করের বোঝা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত লাখ লাখ বাইক মালিকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আর্থিক উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মোটরসাইকেলের ওপর এই কর কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে এনবিআরের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী মহলে গুরুত্বের সাথে আলোচনা চলছে।