
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘নির্ভরযোগ্য’ বা ‘সৎ’ পক্ষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। একই সাথে জাতীয় অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান আন্তর্জাতিক কোনো চাপের মুখে কোনো ধরনের ‘আপস করবে না’ বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাশাসক তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্পিকার গালিবাফ এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালি’। সাম্প্রতিক যুদ্ধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ও জ্বালানি সংকট নেমে এসেছে।
এমন এক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসন এবং দুই পক্ষের দূরত্ব কমাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বে একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চলছে। সেই কূটনৈতিক মিশনের অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে আসেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে তেহরান ছাড়ার আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান এই শান্তি আলোচনা মূলত ইরানের প্রস্তাবিত একটি ১৪ দফার খসড়া দলিলের (রূপরেখা) ভিত্তিতে এগোচ্ছে, যাকে তেহরান আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। আজকের বৈঠকে এই রূপরেখা এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া অতিগোপন বার্তাগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি—উভয় মাধ্যমেই তার ‘বৈধ অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে জানে। ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যে পক্ষের বিন্দুমাত্র সততা নেই, তাকে ইরান কখনোই বিশ্বাস করতে পারে না।"
গালিবাফ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও শক্তি বহুগুণ পুনর্গঠন করেছে। ফলে, ওয়াশিংটন যদি আবারও কোনো ধরনের 'বোকামি' করে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে, তবে তার পরিণতি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের প্রথম দিনের চেয়েও অনেক বেশি 'বিধ্বংসী ও তিক্ত'।
উল্লেখ্য, এর আগেও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন ও কূটনীতিতে প্রতারণার একাধিক অনুরূপ অভিযোগ এনেছিল তেহরান। তা সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।