
যুক্তরাষ্ট্র এবার তার মিত্রদের জন্য ‘আরও সীমিত’ প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদান করবে। নতুন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজিতে (জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল) এ সিদ্ধান্তকে প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেন্টাগনের নতুন নথিতে দেশের নিরাপত্তার অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার চীনকে শীর্ষ হুমকি হিসেবে না ধরে, যুক্তরাষ্ট্র মূল ভূখণ্ড ও পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তাকে প্রধান প্রাধান্য দিচ্ছে। আগের চার বছরের কৌশলে চীনকে ‘বহুমাত্রিক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
নতুন কৌশলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে। রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
৩৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার ‘সুনির্দিষ্ট স্বার্থ’কে উপেক্ষা করেছে। নতুন নথিতে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে ‘বিশ্বের বাকি অংশের স্বার্থের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে না’। বরং মিত্র দেশগুলো—বিশেষ করে ইউরোপ—কিছু হুমকির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিবে, যা তাদের জন্য গুরুতর কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়াকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর নেটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর জন্য ‘স্থায়ী কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হবে ‘সংঘাত নয়, শক্তির ভিত্তিতে’। নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে দমন বা অপমানিত করার চেষ্টা করবে না, তবে কাউকেই তাদের বা মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত থাকবে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ‘প্রাথমিক দায়িত্ব’ নেবে।
নতুন কৌশল ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করছে। নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে পানামা খাল, উপসাগরীয় আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ডে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেটোতে যুক্তরাষ্ট্র ‘কখনো কিছু পায়নি’ এবং ‘আমরা কিছু চাইনি’। এ প্রসঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরবে না, তাই মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে একত্রিত হতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ‘নিয়মহীন বিশ্ব’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।