
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছাগলের হাট বসানো ও এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ও আশপাশের প্রধান সড়কে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রতি বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনের অংশে ও পাশের সড়কে ঐতিহ্যগতভাবে ছাগলের হাট বসে। এবারের হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
আজ দুপুরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। আকস্মিক এই সংঘর্ষের জেরে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারী ও সাধারণ মানুষ দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক পদধারী নেতা জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর থানা বিএনপির অন্যতম নেতা এনায়েতুল হাফিজ এবং স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা লিটন মাহমুদ বাবুর মধ্যে হাট বসানো নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষের সমর্থনে অন্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে যোগ দিলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে স্পষ্ট দুটি পক্ষ অংশ নেয়:
প্রথম পক্ষ: মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ বাবু, থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আল আমিন, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রনি এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনসহ তাদের অনুসারীরা।
দ্বিতীয় পক্ষ: মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েতুল হাফিজ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ।
সংঘর্ষের পর সূচনা কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির হাটের মতো একটি বাণিজ্যিক বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। আমাদের কাছে এটিকে একটি সামান্য বাকবিতণ্ডার ঘটনা বলে মনে হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বড় কোনো মারামারি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।"
ওসি আরও বলেন, ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, সে বিষয়ে পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে পরবর্তীতে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।