
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণেরবার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে ওই যাত্রীর শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় স্বর্ণেরবারগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার নাগরিক ইয়াং ডন সিউ (৪৩)-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি
কাস্টমস হাউস সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।
ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর সন্দেহভাজন হিসেবে ইয়াং ডন সিউকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীরে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণেরবারগুলো উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
বেল্টের ভেতর ৯টি স্বর্ণেরবার
তল্লাশির সময় মোট নয়টি স্বর্ণেরবার পাওয়া যায়। এর মধ্যে চারটির প্রতিটির ওজন এক কেজি এবং বাকি পাঁচটির প্রতিটির ওজন ১০০ গ্রাম করে। সবগুলো বারই ২৪ ক্যারেট মানের।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কালো কাপড়ের তৈরি একটি বেল্টের মধ্যে স্বর্ণেরবারগুলো মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ওই বেল্টটি শার্টের নিচে বিশেষ কৌশলে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই যাত্রী।
এদিকে যাত্রীটি স্বর্ণ বহনের বিষয়ে কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি। একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণ বৈধভাবে বহনের পক্ষে কোনো নথি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি।
কাস্টমস আইনে মামলা, স্বর্ণ আটক
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ১৯১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্ধার করা স্বর্ণগুলো সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। একই আইনের আওতায় ইয়াং ডন সিউয়ের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জাতীয় স্বার্থ ও দেশের রাজস্ব সুরক্ষাকেও এসব অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।